অনেকেই মনে করেন বিড়ালের লোম থেকেই অ্যালার্জি হয়, কিন্তু আসল কারণ অন্য জায়গায়। এই ব্লগে জানুন বিড়ালের অ্যালার্জির মূল কারণ কী এবং কীভাবে সহজ কিছু অভ্যাস বদলে ঘরকে অ্যালার্জি-ফ্রেন্ডলি করা যায়।
বিড়ালের অ্যালার্জি কেন হয়?
অনেক মানুষের ধারণা, বিড়ালের লোমই অ্যালার্জির কারণ। আসলে বিষয়টা তা না।
বিড়ালের শরীরে একটি প্রোটিন থাকে, যার নাম ফেল ডি ওয়ান। এই প্রোটিন বিড়ালের লালা, ত্বক আর প্রস্রাবে থাকে।
বিড়াল যখন নিজের শরীর চাটে, তখন এই প্রোটিন লোমে লেগে যায়। পরে লোম ঝরার সাথে সাথে খুব ছোট ছোট ত্বকের কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলো এত হালকা যে সোফা, বিছানা, পর্দা, কাপড় সব জায়গায় লেগে থাকে।
এই কণা শ্বাসের সাথে শরীরে ঢুকলে অনেকের
-
হাঁচি
-
নাক দিয়ে পানি
-
চোখ চুলকানো
-
কাশি
এই সমস্যাগুলো দেখা দেয়।
ভয়ের কিছু নেই। একটু সচেতন হলেই অ্যালার্জি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
বিড়ালের অ্যালার্জি কমানোর ৯টি কার্যকর উপায়
১. বিড়ালের খাবার পরিবর্তন করুন
অ্যালার্জি কমানোর সবচেয়ে সহজ শুরু হতে পারে খাবার থেকে।
ভালো মানের খাবার বিড়ালের ত্বক ও লোম সুস্থ রাখে, ফলে ড্যান্ডার কম তৈরি হয়।
কিছু বিশেষ খাবার ফেল ডি ওয়ান প্রোটিনের প্রভাবও কমাতে সাহায্য করে। খাবার পরিবর্তনের আগে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করানো ভালো।
২. ড্যান্ডার জমে এমন জিনিস কমান
কার্পেট, শো-পিস বালিশ, ভারী পর্দা, কম্বল এসব জিনিসে অ্যালার্জেন খুব সহজে আটকে যায়।
সম্ভব হলে
-
কম কার্পেট ব্যবহার করুন
-
হালকা ও ধোয়া যায় এমন কাপড় নিন
-
নিয়মিত গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন
৩. ঘরের বাতাস চলাচল ঠিক রাখুন
ঘরে বাতাস চলাচল ভালো থাকলে অ্যালার্জেন জমে থাকতে পারে না।
-
এসি চালালে ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করুন
-
সম্ভব হলে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন
-
আবহাওয়া ভালো থাকলে জানালা খুলে দিন
৪. নিয়মিত বিড়ালকে ব্রাশ করুন
সপ্তাহে কয়েকদিন ব্রাশ করলে
-
ঝরে পড়া লোম কমে
-
ড্যান্ডার ছড়ানো কম হয়
সম্ভব হলে অন্য কেউ ব্রাশ করুক। ব্রাশের পর লোম সাথে সাথে ফেলে দিন।
মাঝে মাঝে ক্যাট ওয়াইপ দিয়ে শরীর মুছে দিলেও ভালো কাজ করে।
৫. বিড়ালের বিছানা ও নিজের বিছানা ধুতে ভুলবেন না
বিড়াল যেখানে ঘুমায় সেখানে অ্যালার্জেন সবচেয়ে বেশি জমে।
-
বিড়ালের বিছানা সপ্তাহে অন্তত একবার ধুুন
-
আপনি যদি বিড়ালের সাথে ঘুমান, নিজের চাদরও নিয়মিত ধুুন
-
গরম পানি ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়
৬. খেলাধুলার পর হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন
খেলার সময় বিড়াল গা ঘষে, চাটে, নখ দেয়। এতে অ্যালার্জেন হাতে লেগে যায়।
খেলা শেষে
-
সাবান দিয়ে হাত ধুুন
-
চোখ বা মুখে হাত দেওয়া এড়িয়ে চলুন
৭. পরিষ্কার করার কৌশল বদলান
শুকনা ঝাড়ু বা কাপড় দিয়ে ধুলো পরিষ্কার করলে অ্যালার্জেন উড়ে যায়।
ভালো অভ্যাস হলো
-
ভেজা কাপড় বা মপ ব্যবহার করা
-
বিড়ালের বসার জায়গা নিয়মিত মুছা
-
ভ্যাকুয়াম করার সময় মাস্ক পরা
-
মাঝে মাঝে স্টিম ক্লিন করা
৮. লিটার বক্স পরিষ্কার রাখুন
ধুলাবিহীন, গন্ধহীন লিটার ব্যবহার করুন।
-
প্রতিদিন লিটার পরিষ্কার করুন
-
বাতাস চলাচল ভালো এমন জায়গায় লিটার বক্স রাখুন
এতে বাতাসে অ্যালার্জেন কম ছড়াবে।
৯. কিছু জায়গা বিড়ালের জন্য বন্ধ রাখুন
বিশেষ করে বেডরুম।
যেখানে আপনি সবচেয়ে বেশি সময় থাকেন, সেখানে বিড়ালের প্রবেশ সীমিত রাখলে অ্যালার্জি অনেক কমে যায়।
একটি বা দুটি “অ্যালার্জি-ফ্রি জোন” রাখুন।
হাইপোঅ্যালার্জেনিক বিড়াল কি সত্যিই আছে?
সত্যি কথা হলো, পুরোপুরি অ্যালার্জি-ফ্রি কোনো বিড়াল নেই।
কারণ ফেল ডি ওয়ান প্রোটিন সব বিড়ালের শরীরেই থাকে, লোম থাকুক বা না থাকুক।
তবে কিছু জাত আছে যেগুলো
-
কম লোম ঝরায়
-
ড্যান্ডার কম ছড়ায়
তুলনামূলক কম শেডিং করা বিড়াল
-
ডেভন রেক্স
-
কর্নিশ রেক্স
-
বার্মিজ
-
রাশিয়ান ব্লু
-
ওরিয়েন্টাল শর্টহেয়ার
বাড়তি তথ্য
সাইবেরিয়ান বিড়াল মাঝারি লোম ঝরালেও অনেক ক্ষেত্রে ফেল ডি ওয়ান কম তৈরি করে, তাই কিছু মানুষের জন্য সহনীয় হয়।
শেষ কথা
বিড়ালের অ্যালার্জি মানেই বিড়াল ছাড়তে হবে, এমন না।
খাবার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আর কিছু ছোট অভ্যাস বদলালেই আপনি আর আপনার বিড়াল একসাথে আরামেই থাকতে পারবেন।